সুরেশ চন্দ্রাকার
🔴 অপরাধী প্রোফাইল: Suresh Chandrakar
SPO থেকে খুনের মূলচক্রী
🧾 ব্যক্তিগত তথ্য
👤 নাম
সুরেশ চন্দ্রাকার
🎂 বয়স
৪২ বছর
🏠 পারিবারিক পটভূমি
ছত্তীসগড়ের মাওবাদী-প্রভাবিত বাসাগুডা এলাকার এক কর্মরত পুলিশ কনস্টেবলের ছেলে।
স্কুল ড্রপআউট।
প্রথম জীবনে রান্নার কাজ করতেন।
পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত Salwa Judum মিলিশিয়ায় SPO (Special Police Officer) হিসেবে কাজ শুরু করেন।
💰 বিলাসবহুল জীবন ও সম্পদ
🏛️ অবৈধ সম্পত্তি
বিজাপুরের ছত্তানপাড়া এলাকায় আধা একর বনভূমির উপর নির্মিত ১৭ কক্ষের বিলাসবহুল বাংলো।
বাংলোর ভিতরে রয়েছে ব্যক্তিগত ব্যাডমিন্টন কোর্ট।
🚁 বিলাসী বিয়ে (২০২১)
বিয়েতে ভাড়া করা হয়েছিল একটি প্রাইভেট হেলিকপ্টার।
বিদেশি নৃত্যশিল্পীদের পারফরম্যান্স ছিল আকর্ষণের কেন্দ্র।
স্থানীয়ভাবে এই বিয়ে “শক্তি ও টাকার প্রদর্শনী” হিসেবে পরিচিত হয়।
🏛️ রাজনৈতিক সংযোগ
২০১০-এর দশকের শুরুতে Congress দলের সদস্য ছিলেন।
মহারাষ্ট্রে “Election Observer” হিসেবেও কাজ করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে BJP-তে যোগ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন দাবি উঠে আসে, যদিও এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে।
⚠️ অপরাধ ১: বহু-কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ দুর্নীতি
🛣️ প্রকল্পের বিবরণ
সুরেশ চন্দ্রাকার ছিলেন একজন Class A Government Contractor।
তিনি বস্তার অঞ্চলে একাধিক সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ পান।
📍 মূল প্রকল্প
Nelsnar-Gangalur Road Project
মোট দৈর্ঘ্য: ৩২.৪ কিলোমিটার
প্রাথমিক বাজেট: ₹৫৪ কোটি
💸 দুর্নীতির কৌশল
📈 ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
মাত্র ২৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ হলেও প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ₹১৪১ কোটি।
বারবার সময়সীমা বাড়িয়ে এই অর্থ বৃদ্ধি করা হয়।
📺 তদন্তে যা প্রকাশ পায়
২৫ ডিসেম্বর ২০২৪-এ প্রচারিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে আসে:
কাজের পরিধি না বাড়লেও খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ₹১২০ কোটিরও বেশি।
নিম্নমানের অবকাঠামো ও আর্থিক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে।
☠️ অপরাধ ২: সাংবাদিক খুনের মূলচক্রী
🎯 ভিকটিম
Mukesh Chandrakar
একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, যিনি সুরেশের দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি সুরেশের দূর সম্পর্কের আত্মীয়ও ছিলেন।
🕵️ ষড়যন্ত্র
📅 ঘটনার দিন
১ জানুয়ারি ২০২৫
📍 কীভাবে ডাকা হয়?
মুকেশকে সুরেশের ছত্তানপাড়ার বাড়িতে আলোচনার নামে ডাকা হয়।
🔨 হত্যাকাণ্ড
অভিযোগ অনুযায়ী:
সুরেশ ছিলেন পুরো হত্যার “Mastermind”।
ভাই রীতেশ চন্দ্রাকার ও কর্মচারী মহেন্দ্র রামটেকে লোহার রড দিয়ে সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যা করে।
🧱 প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা
🚨 মৃতদেহ গোপন
মৃতদেহ বাংলোর সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকানো হয়।
কংক্রিট স্ল্যাব ঢালাই করে ট্যাঙ্ক সিল করে দেওয়া হয়।
সিমেন্ট মিক্সার ব্যবহার করে দ্রুত ঢালাই সম্পন্ন করা হয়।
📱 মোবাইল ধ্বংস
ভিকটিমের মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয় তুমনার নদীতে।
👥 সহযোগীরা
| নাম | ভূমিকা |
|---|---|
| Ritesh Chandrakar | সরাসরি হামলায় অভিযুক্ত |
| Dinesh Chandrakar | সেপটিক ট্যাঙ্ক সিমেন্টিং তদারকির অভিযোগ |
| Mahendra Ramteke | হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগ |
🚔 বর্তমান অবস্থা ও আইনি ব্যবস্থা
🏃 পালিয়ে যাওয়া
হত্যার পর সুরেশ পালিয়ে যায় হায়দ্রাবাদে।
SIT CCTV ফুটেজ ও মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে তাকে খুঁজে বের করে।
শেষ পর্যন্ত ড্রাইভারের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
⚖️ মামলার ধারা
১৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে চার্জশিট দাখিল হয় নিম্নলিখিত ধারায়:
🔴 খুন — BNS Section 103
🔴 অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র — Section 61
🔴 প্রমাণ নষ্ট করা — Section 238
🔴 অপরাধীকে বাঁচাতে সুবিধা গ্রহণ — Section 250
🏚️ প্রশাসনিক ব্যবস্থা
❌ বাতিল করা হয়েছে
সমস্ত সরকারি কন্ট্রাক্ট
Contractor License
🏦 ফ্রিজ করা হয়েছে
৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
🚜 ভেঙে ফেলা হয়েছে
অবৈধ নির্মাণ প্ল্যান্ট
প্রশাসন বুলডোজার ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেয়।
📌 সারসংক্ষেপ
একসময়ের SPO থেকে কোটি টাকার ঠিকাদার,
তারপর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত,
এবং শেষ পর্যন্ত এক সাংবাদিক হত্যার মূলচক্রী —
সুরেশ চন্দ্রাকারের উত্থান ও পতনের গল্প এখন ভারতের অন্যতম আলোচিত অপরাধ কাহিনি।
Comments
Post a Comment